(১) জেলা কমিশন, অভিযোগ গ্রহণপূর্বক অথবা মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তিতে ব্যর্থতার পর মধ্যস্থতার জন্য প্রেরিত মামলার ক্ষেত্রে, উক্ত অভিযোগের কার্যক্রম গ্রহণ করিবেন।
(২) যেখানে অভিযোগটি কোনো পণ্য সংক্রান্ত, জেলা কমিশন,—
(ক) গৃহীত অভিযোগের একটি অনুলিপি, উহা গৃহীত হইবার তারিখ হইতে একুশ দিনের মধ্যে, অভিযোগে উল্লিখিত বিপক্ষীয় পক্ষের নিকট প্রেরণ করিবে এবং তাহাকে ত্রিশ দিনের মধ্যে অথবা উহা কর্তৃক মঞ্জুরীকৃত পনেরো দিনের অধিক নহে এমন বর্ধিত সময়সীমার মধ্যে মামলার বিষয়ে তাহার বক্তব্য পেশ করিবার নির্দেশ দিবে;
(b) যদি বিপরীত পক্ষ দফা (ক) এর অধীন তাঁহার নিকট প্রেরিত অভিযোগ প্রাপ্তির পর, অভিযোগে বর্ণিত অভিযোগসমূহ অস্বীকার বা বিতর্ক করেন, অথবা জেলা কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত সময়ের মধ্যে তাঁহার বক্তব্য উপস্থাপন করিবার জন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে ব্যর্থ হন বা অবহেলা করেন, তাহা হইলে দফা (গ) হইতে (ছ) তে উল্লিখিত পদ্ধতিতে ভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি করিবার জন্য অগ্রসর হইবেন;
(গ) যদি অভিযোগে দাবি করা হয় যে পণ্যে এমন কোনো ত্রুটি আছে যা পণ্যের যথাযথ বিশ্লেষণ বা পরীক্ষা ব্যতীত নির্ধারণ করা যায় না, তবে অভিযোগকারীর নিকট হইতে পণ্যের একটি নমুনা সংগ্রহ করা, উহা সীলমোহর করা এবং নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসারে উহা প্রমাণীকরণ করা এবং উক্ত সীলমোহরকৃত নমুনাটি উপযুক্ত পরীক্ষাগারে এই নির্দেশসহ প্রেরণ করা যে উক্ত পরীক্ষাগার একটি বিশ্লেষণ বা পরীক্ষা করিবে, যাহা প্রয়োজনীয় হইতে পারে, এই উদ্দেশ্যে যে উহা নির্ণয় করা যাইবে যে উক্ত পণ্যে অভিযোগে উল্লিখিত কোনো ত্রুটি আছে কিনা অথবা অন্য কোনো ত্রুটি আছে কিনা এবং উহার উপর উহার অনুসন্ধানলব্ধ ফলাফল জেলা কমিশনে রেফারেন্স প্রাপ্তির পঁয়তাল্লিশ দিনের মধ্যে অথবা উহার দ্বারা মঞ্জুরীকৃত বর্ধিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন আকারে পেশ করিবে;
(ঘ) দফা (গ) এর অধীন কোনো পণ্যের নমুনা কোনো যথাযথ পরীক্ষাগারে প্রেরণের পূর্বে, সংশ্লিষ্ট পণ্যের প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণ বা পরীক্ষা সম্পাদনের জন্য যথাযথ পরীক্ষাগারকে পরিশোধের নিমিত্ত, অভিযোগকারীকে কমিশনের অনুকূলে যেরূপ ফি নির্ধারিত হইতে পারে, সেইরূপ ফি জমা দিতে নির্দেশ দিতে পারে;
(ঙ) দফা (ঘ) এর অধীনে উহার পাওনা বাবদ জমাকৃত অর্থ উপযুক্ত পরীক্ষাগারে প্রেরণ করিবে, যাহাতে উহা দফা (গ) তে উল্লিখিত বিশ্লেষণ বা পরীক্ষা সম্পাদন করিতে পারে এবং উপযুক্ত পরীক্ষাগার হইতে প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর, উহা প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি, যেরূপ মন্তব্য উহা সমীচীন মনে করে, তৎসহ বিপক্ষীয় পক্ষকে প্রেরণ করিবে;
(f) যদি কোনো পক্ষ উপযুক্ত পরীক্ষাগারের প্রাপ্ত ফলাফলের সঠিকতা সম্পর্কে বিরোধ করে, অথবা উপযুক্ত পরীক্ষাগার কর্তৃক গৃহীত বিশ্লেষণ বা পরীক্ষার পদ্ধতির সঠিকতা সম্পর্কে বিরোধ করে, তবে বিপরীত পক্ষ বা অভিযোগকারীকে উপযুক্ত পরীক্ষাগার কর্তৃক প্রণীত প্রতিবেদন সম্পর্কে লিখিতভাবে তাহার আপত্তি দাখিল করিতে নির্দেশ দিবে;
(ছ) অভিযোগকারীকে এবং বিপক্ষীয় পক্ষকে উপযুক্ত পরীক্ষাগার কর্তৃক প্রদত্ত প্রতিবেদনের সঠিকতা বা অন্যথা সম্পর্কে এবং দফা (চ) এর অধীন তৎসম্পর্কে উত্থাপিত আপত্তি সম্পর্কে শুনানির একটি যুক্তিযুক্ত সুযোগ প্রদান করা এবং ধারা ৩৯ এর অধীন একটি উপযুক্ত আদেশ জারি করা।
(৩) জেলা কমিশন, যদি উহার দ্বারা ধারা ৩৬-এর উপধারা (২) এর অধীন গৃহীত অভিযোগটি এমন পণ্য সম্পর্কিত হয় যেগুলির ক্ষেত্রে উপধারা (২) -এ নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করা সম্ভব না হয়, অথবা যদি অভিযোগটি কোনো পরিষেবা সম্পর্কিত হয়,—
(ক) উক্ত অভিযোগের একটি প্রতিলিপি বিপরীত পক্ষকে প্রেরণ করিবে এবং তাহাকে নির্দেশ প্রদান করিবে যে, সে ত্রিশ দিনের মধ্যে অথবা জেলা কমিশন কর্তৃক মঞ্জুরকৃত পনেরো দিনের অনধিক এইরূপ বর্ধিত সময়ের মধ্যে মামলার তাহার বক্তব্য পেশ করিবে;
(খ) যদি বিপক্ষীয় পক্ষ, দফা (ক) এর অধীন তাঁহার নিকট প্রেরিত অভিযোগের অনুলিপি প্রাপ্তির পর, অভিযোগে উল্লিখিত অভিযোগিত বিষয়সমূহ অস্বীকার করে বা বিতর্ক করে, অথবা জেলা কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত সময়ের মধ্যে তাহার বক্তব্য পেশ করিতে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে উপেক্ষা করে বা ব্যর্থ হয়, তাহা হইলে উহা ভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি করিতে অগ্রসর হইবে—
(i) অভিযোগকারী এবং বিপরীত পক্ষ কর্তৃক তাহার গোচরে আনীত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে, যদি বিপরীত পক্ষ অভিযোগে বর্ণিত অভিযোগসমূহ অস্বীকার করে বা বিরোধ করে, অথবা
(ii) একতরফাভাবে, অভিযোগকারী কর্তৃক তার গোচরীভূত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে, যেক্ষেত্রে বিপক্ষ পক্ষ কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার বক্তব্য পেশ করার জন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয় বা ত্রুটি করে;
(c) অভিযোগকারী শুনানির তারিখে উপস্থিত হইতে ব্যর্থ হইলে, অভিযোগের গুণাগুণের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা।
(৪) উপ-ধারা (২) এবং (৩) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, জেলা কমিশন, আদেশ দ্বারা, কোনো ইলেকট্রনিক পরিষেবা প্রদানকারীকে এমন তথ্য, নথি বা রেকর্ড সরবরাহ করিতে নির্দেশ দিতে পারিবেন, যেমন উক্ত আদেশে সুনির্দিষ্ট করা থাকিবে।
(৫) [উপ-ধারা (২) এবং (৩) ]-এ বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণকারী কোনো কার্যধারাকে এই যুক্তিতে কোনো আদালতে প্রশ্ন করা যাইবে না যে, প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের মূলনীতি পালন করা হয় নাই।
(6) প্রত্যেক অভিযোগের শুনানি জেলা কমিশন কর্তৃক হলফনামা এবং নথিতে দাখিলকৃত দলিলী প্রমাণের ভিত্তিতে হইবে।
তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে শুনানি বা পক্ষগণের ব্যক্তিগতভাবে অথবা ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে পরীক্ষার জন্য কোনো আবেদন করা হয়, জেলা কমিশন, যথাযথ কারণ প্রদর্শিত হইলে এবং লিখিতভাবে উহার কারণ লিপিবদ্ধ করিবার পর, উহা মঞ্জুর করিতে পারিবেন।
(৭) প্রতিটি অভিযোগ যত শীঘ্র সম্ভব নিষ্পত্তি করা হইবে এবং প্রতিপক্ষ কর্তৃক নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ হইতে তিন মাসের মধ্যে অভিযোগটির নিষ্পত্তি করিবার প্রচেষ্টা করা হইবে, যেখানে অভিযোগটির পণ্য বিশ্লেষণ বা পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না, এবং পাঁচ মাসের মধ্যে, যদি পণ্য বিশ্লেষণ বা পরীক্ষার প্রয়োজন হয়।
তবে শর্ত থাকে যে, জেলা কমিশন কর্তৃক সাধারণত কোনো মুলতবি মঞ্জুর করা হইবে না, যদি না পর্যাপ্ত কারণ দেখানো হয় এবং মুলতবি মঞ্জুরের কারণসমূহ কমিশন কর্তৃক লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়।
তবে আরও শর্ত থাকে যে, জেলা কমিশন মুলতবির কারণে উদ্ভূত খরচ বাবদ সেইরূপ আদেশ প্রদান করিবে যেরূপ প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইতে পারে।
তবে আরও এই যে, কোনো অভিযোগ উক্ত নির্দিষ্ট সময়সীমার পর নিষ্পত্তি করা হইলে, জেলা কমিশন উক্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির সময় উহার কারণসমূহ লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করিবে।
(৮) যেখানে জেলা কমিশনের নিকট কোনো কার্যধারা বিচারাধীন থাকা অবস্থায়, যদি আবশ্যক বলিয়া প্রতীয়মান হয়, ইহা মামলার ঘটনা ও পরিস্থিতিতে যেরূপ ন্যায়সঙ্গত ও যথাযথ, সেরূপ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(৯) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, জেলা কমিশনের কোন মোকদ্দমার বিচারকালে দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ (১৯০৮ সনের ৫ নং আইন) -এর অধীন দেওয়ানী আদালতের উপর ন্যস্ত ক্ষমতাগুলির অনুরূপ ক্ষমতা থাকিবে, নিম্নলিখিত বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে, যথা:—
(a) কোনো বিবাদী বা সাক্ষীকে তলব করা এবং তাহাদের উপস্থিতি কার্যকর করা এবং শপথ গ্রহণ করাইয়া সাক্ষীর পরীক্ষা গ্রহণ;
(b) প্রমাণ হিসাবে কোনো নথি বা অন্য কোনো বস্তুগত সামগ্রীর উন্মোচন ও উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া;
(গ) হলফনামা মারফত সাক্ষ্য গ্রহণ;
(d) যথোপযুক্ত পরীক্ষাগার বা অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক উৎস হইতে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণ বা পরীক্ষার প্রতিবেদন আহ্বান;
(e) কোনো সাক্ষী বা দলিল পরীক্ষার জন্য কমিশন জারী; এবং
(f) অন্য কোন বিষয় যাহা কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইতে পারে।
(১০) জেলা কমিশনের নিকট প্রতিটি কার্যধারা ভারতীয় দণ্ড সংহিতা (১৮৬০ সনের ৪৫ নং আইন) -এর ধারা ১৯৩ এবং ২২৮-এর অর্থানুযায়ী একটি বিচারিক কার্যধারা বলিয়া গণ্য হইবে, এবং জেলা কমিশন ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৯৭৩ (১৯৭৪ সনের ২ নং আইন) -এর ধারা ১৯৫ এবং অধ্যায় ২৬-এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে একটি ফৌজদারি আদালত বলিয়া গণ্য হইবে।
(11) যেক্ষেত্রে অভিযোগকারী ধারা ২ এর দফা (৫) এর উপ-দফা (v) -তে উল্লিখিত একজন ভোক্তা হন, সেইক্ষেত্রে দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ (১৯০৮ সনের ৫ নং আইন) -এর প্রথম তফসিলের আদেশ ১ বিধি ৮ এর বিধানাবলী এই মর্মে সংশোধনাধীন প্রযোজ্য হইবে যে, উক্ত বিধানাবলীতে মামলা বা ডিক্রির প্রতিটি উল্লেখ অভিযোগ বা জেলা কমিশন কর্তৃক তদনুসারে প্রদত্ত আদেশ হিসাবে গণ্য হইবে।
(১২) একজন ভোক্তা-অভিযোগকারী অথবা যাহার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হইয়াছে সেই বিপরীত পক্ষের মৃত্যু ঘটিলে, দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ (১৯০৮ সনের ৫ নং আইন) -এর প্রথম তফসিলের ২২ আদেশের বিধানাবলী এই পরিবর্তন সাপেক্ষে প্রযোজ্য হইবে যে, উহাতে বাদী ও বিবাদীর প্রতি প্রত্যেক উল্লেখ ক্ষেত্রমত একজন অভিযোগকারী অথবা বিপরীত পক্ষের প্রতি উল্লেখ হিসাবে গণ্য হইবে।